পৃথিবীর ইতিহাসে বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রপ্রধান তাঁদের নেতৃত্ব, নীতি ও প্রভাবের জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত ।। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (বাংলাদেশ) কেন পৃথিবী বিখ্যাত রাষ্ট্র প্রধানদের মধ্য একজন

ছবি: চ্যাট জিপিটি
পৃথিবীর ইতিহাসে এবং বর্তমানে বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রপ্রধান তাঁদের নেতৃত্ব, নীতি ও প্রভাবের জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ভারতের নরেন্দ্র মোদী, যুক্তরাষ্ট্রের জো বাইডেন, কানাডার জাস্টিন ট্রুডো, রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের শি জিনপিং এবং বাংলাদেশের শেখ হাসিনা (সাবেক প্রধানমন্ত্রী)। এছাড়াও ঐতিহাসিক নেতাদের মধ্যে আব্রাহাম লিংকন, নেলসন ম্যান্ডেলা, এবং উইনস্টন চার্চিল অন্যতম ।
বর্তমান সময়ের উল্লেখযোগ্য বিশ্বনেতা:
- নরেন্দ্র মোদী (ভারত): বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ।
- জো বাইডেন (যুক্তরাষ্ট্র): বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শক্তির রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন।
- ভ্লাদিমির পুতিন (রাশিয়া): দীর্ঘ সময় ধরে রাশিয়ার ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা অন্যতম প্রভাবশালী নেতা ।
- শি জিনপিং (চীন): চীনের বর্তমান পরাক্রমশালী রাষ্ট্রপ্রধান বা প্যারা মাউন্ট লিডার ।
- শেখ হাসিনা (বাংলাদেশ): দীর্ঘমেয়াদী এবং উন্নয়নে অবদান রাখা বিশ্বস্ত নেতাদের অন্যতম (প্রধানমন্ত্রী ছিলেন)।
- জাস্টিন ট্রুডো (কানাডা): আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত নেতা ।
এই নেতারা নিজ নিজ মেধা, সাহসিকতা এবং কূটনৈতিক দক্ষতার মাধ্যমে বিশ্বের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন ও করছেন।
ঐতিহাসিক ও প্রভাবশালী বিশ্বনেতা:
- আব্রাহাম লিংকন: যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম রাষ্ট্রপতি, যিনি দাসপ্রথা বিলুপ্তির জন্য বিখ্যাত ।
- নেলসন ম্যান্ডেলা: দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের মহান নেতা ।
- উইনস্টন চার্চিল: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত প্রধানমন্ত্রী ।
- মহাত্মা গান্ধী: অহিংস আন্দোলনের বিশ্বনন্দিত নেতা ।
ইতিহাসে এমন অনেক রাষ্ট্রপ্রধান রয়েছেন যারা তাদের নেতৃত্ব, আদর্শ এবং কাজের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে অমর হয়ে আছেন। নিচে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও বিখ্যাত কিছু রাষ্ট্রপ্রধানের তালিকা
১. নেলসন ম্যান্ডেলা (দক্ষিণ আফ্রিকা)
তিনি বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের মহানায়ক ছিলেন। প্রায় ২৭ বছর কারাগারে কাটানোর পর তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হন এবং শান্তি ও ক্ষমার প্রতীক হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান।
২. মহাত্মা গান্ধী (ভারত)
যদিও তিনি প্রথাগতভাবে দেশের প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না, তবুও তাঁকে ভারতের ‘জাতির জনক’ বলা হয়। অহিংস ও অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতকে মুক্ত করতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
৩. আব্রাহাম লিংকন (যুক্তরাষ্ট্র)
যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম প্রেসিডেন্ট। তিনি আমেরিকার গৃহযুদ্ধ জয় করে দেশ ঐক্যবদ্ধ রাখেন এবং দাসপ্রথা বিলুপ্তিতে প্রধান ভূমিকা পালন করেন।
৪. উইনস্টন চার্চিল (যুক্তরাজ্য)
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতার মাধ্যমে মিত্রশক্তি নাৎসি জার্মানিকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়।
৫. ফিদেল কাস্ত্রো (কিউবা)
কিউবার কমিউনিস্ট বিপ্লবের নেতা এবং দীর্ঘকাল দেশটির শাসক ছিলেন। সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী অবস্থানের জন্য তিনি সারা বিশ্বে আলোচিত ও বিতর্কিত—উভয়ই ছিলেন।
৬. মার্গারেট থ্যাচার (যুক্তরাজ্য)
যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, যাকে ‘লৌহমানবী’ বা ‘আয়রন লেডি’ বলা হয়। তিনি তাঁর দৃঢ় সিদ্ধান্ত এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য বিখ্যাত।
৭. ভ্লাদিমির লেনিন (সোভিয়েত ইউনিয়ন)
রুশ বিপ্লবের প্রধান নেতা এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা। বিশ শতকের বিশ্ব রাজনীতিতে তাঁর সমাজতান্ত্রিক আদর্শ গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
৮. লি কুয়ান ইউ (সিঙ্গাপুর)
আধুনিক সিঙ্গাপুরের জনক। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে একটি ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র সিঙ্গাপুর বিশ্বের অন্যতম উন্নত ও অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়।
৯. আঙ্গেলা মের্কেল (জার্মানি)
জার্মানির দীর্ঘসময়ের চ্যান্সেলর। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংকট মোকাবিলা এবং বিশ্ব রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
১০. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (বাংলাদেশ)
বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতির পিতা। তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব ও ৭ই মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ হয় এবং দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।
এই তালিকার বাইরেও জন এফ. কেনেডি, মাও সেতুং, ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট এবং জহরলাল নেহেরুর মতো অনেক রাষ্ট্রপ্রধান রয়েছেন যারা বিশ্ব ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (বাংলাদেশ) কেন পৃথিবী বিখ্যাত রাষ্ট্র প্রধানদের মধ্য একজন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেবল বাংলাদেশের নেতা ছিলেন না, বরং তাঁর আদর্শ, বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এবং শোষিত মানুষের পক্ষে অবস্থানের কারণে তিনি বিশ্বমঞ্চে একজন প্রবাদপ্রতিম রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর বিশ্বখ্যাত হওয়ার মূল কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. হিমালয়সম ব্যক্তিত্ব ও সাহস
কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো ১৯৭৩ সালে আলজিয়ার্সে জোটনিরপেক্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিত্ব দেখে বলেছিলেন, “আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসে এই মানুষটিই হিমালয়”। বিশ্বনেতাদের কাছে তাঁর এই অটল সাহস তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।
২. ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল একটি নিরস্ত্র জাতিকে সশস্ত্র জাতিতে রূপান্তরের অনন্য দলিল। এই ভাষণটিকে ইউনেস্কো (UNESCO) ২০১৭ সালে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ (Memory of the World Register) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটি পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক ভাষণ হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
৩. জুলিও-কুরি শান্তি পদক (বিশ্ববন্ধু)
বিশ্ব শান্তিতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালের ২৩ মে বিশ্ব শান্তি পরিষদ বঙ্গবন্ধুকে মর্যাদাপূর্ণ ‘জুলিও-কুরি’ (Joliot-Curie) শান্তি পদক প্রদান করে। এই সম্মাননা পাওয়ার পর তিনি ‘বঙ্গবন্ধু’ থেকে বিশ্বব্যাপী ‘বিশ্ববন্ধু’ (Friend of the World) হিসেবে পরিচিতি পান।
৪. জাতিসংঘের প্রথম বাংলায় ভাষণ ও পররাষ্ট্রনীতি
১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তিনি প্রথমবারের মতো বাংলায় ভাষণ দিয়ে বাঙালি জাতি ও ভাষাকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর ঘোষিত পররাষ্ট্রনীতি—“সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়” (Friendship to all, malice towards none)—সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রস্তাব আকারে গৃহীত হয়েছে, যা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর দূরদর্শিতার প্রমাণ।
৫. শোষিত মানুষের অনুপ্রেরণা

ছবি: চ্যাট জিপিটি
তিনি শুধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্যই লড়াই করেননি, বরং সারাবিশ্বের নিপীড়িত ও শোষিত মানুষের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। ব্রিটিশ মানবতাবাদী আন্দোলনের নেতা লর্ড ফেনার ব্রকওয়ে মন্তব্য করেছিলেন যে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে শেখ মুজিব জর্জ ওয়াশিংটন বা মহাত্মা গান্ধীর চেয়েও বড় নেতা।
২০০৪ সালে বিবিসির শ্রোতা জরিপে তিনি ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি’ হিসেবে নির্বাচিত হন, যা তাঁর বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার এক বড় উদাহরণ।
বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা (বাংলাদেশ)বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও বিখ্যাত কিছু রাষ্ট্রপ্রধানদের তালিকায় নাম এলো কেন
শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী এবং বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নারী নেত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত । বিভিন্ন বৈশ্বিক সাময়িকী ও সংস্থা তাঁর নেতৃত্ব ও প্রভাবকে ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করেছে:
- ফোর্বস (Forbes): ২০২৩ সালে ফোর্বসের ‘বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী নারী’ তালিকায় তিনি ৪৬তম স্থানে ছিলেন ]। এছাড়া রাজনীতি ও নীতি-নির্ধারণী ক্যাটাগরিতে তিনি বিশ্বের ৯ম প্রভাবশালী নারী হিসেবে স্বীকৃতি পান । এর আগে ২০১৮ সালে তিনি এ তালিকায় ২৬তম স্থানে ছিলেন ।
- ফরচুন (Fortune): বিশ্বখ্যাত বিজনেস ম্যাগাজিন ফরচুন ২০১৬ সালে শেখ হাসিনাকে বিশ্বের সেরা ৫০ নেতার তালিকায় ১০ম স্থানে রেখেছিল ।
- টাইম ম্যাগাজিন (TIME): ২০১৮ সালে টাইম ম্যাগাজিনের বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। প্রধানত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে মানবিক ভূমিকা রাখার জন্য তিনি এই স্বীকৃতি পান ।
- দীর্ঘতম শাসনামল: তিনি বিশ্বের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালনকারী নারী সরকার প্রধান হিসেবে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন । তিনি মোট ২০ বছরেরও বেশি সময় (১৯৯৬-২০০১ এবং ২০০৯-২০২৪) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ।
- দ্য ইকোনমিস্ট (The Economist): ব্রিটিশ এই সাময়িকী তাঁকে এশিয়ার ‘আয়রন লেডি’ (Iron Lady) হিসেবে অভিহিত করেছে ।
তবে উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তিনি পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান [১.১.২, ১.৫.৯]। বর্তমানে তাঁর শাসনকাল নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যেমন উন্নয়নের প্রশংসা রয়েছে, তেমনি মানবাধিকার ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কও রয়েছে ।
১. আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা
শেখ হাসিনা তাঁর দীর্ঘ শাসনামলে পরিবেশ রক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন এবং মানবিক অবদানের জন্য প্রায় ৩৭টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও পদক লাভ করেছেন । উল্লেখযোগ্য কিছু হলো:
- চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ (২০১৫): জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় অসামান্য অবদানের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ পরিবেশবিষয়ক এই পুরস্কার লাভ করেন ।
- আইপিএস ইন্টারন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড (২০১৮): রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য ‘ইন্টার প্রেস সার্ভিস’ (IPS) তাঁকে এই সম্মাননা দেয় ।
- স্পেশাল ডিস্টিংশন অ্যাওয়ার্ড ফর আউটস্ট্যান্ডিং লিডারশিপ (২০১৮): রোহিঙ্গা সংকটে দূরদর্শী নেতৃত্বের জন্য গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন তাঁকে এই পুরস্কার প্রদান করে ।
- এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড ও প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন (২০১৬): নারী ক্ষমতায়নে বিশেষ অবদানের জন্য জাতিসংঘ এবং গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরাম এই স্বীকৃতি দেয় ।
- সেরেস (CERES) মেডেল (১৯৯৯): ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াই এবং কৃষির উন্নয়নে অবদানের জন্য জাতিসংঘের এফএও (FAO) এই পদক প্রদান করে ।
- ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড (২০১৯): ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়ন এবং শান্তির জন্য এই সম্মাননা পান [
২. সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন (২০২৪-২০২৬)
২০২৪ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ফলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসে:
- সরকারের পতন ও পদত্যাগ: ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে তীব্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ভারতে চলে যান । এর মাধ্যমে তাঁর টানা ১৫ বছরেরও বেশি সময়ের শাসনের অবসান ঘটে ।
- অন্তর্বর্তীকালীন সরকার: ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শপথ গ্রহণ করে । এই সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ এবং পুলিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে ।
- আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থা: ২০২৫ সালের মে মাসে সরকার আওয়ামী লীগের সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে এবং নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন বাতিল করে । বর্তমানে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে ।
- নির্বাচন ২০২৬: বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে [
শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতেই অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকে সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন, যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে ।
তথ্যসূত্র: িইকিপিডিয়া

