বাংলাদেশের রাজনীতিতে চীনের নতুন সংযোগ
বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে বেইজিংয়ের যোগাযোগ: কূটনীতি, রাজনৈতিক সমীকরণ ও বাংলাদেশের স্বার্থ
আলাপচারিতা | সময়ের কথন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং
বাংলাদেশের রাজনীতিতে চীনের যোগাযোগ নতুন কিছু নয়। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক সরকারের সঙ্গে বেইজিং সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চীনের সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগ, দলীয় পর্যায়ে সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের উদ্যোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ৪ নভেম্বর ঢাকায় চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের উপস্থিতিতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রশ্ন হচ্ছে, চীন কেন বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণে আগ্রহী? এই যোগাযোগ কি শুধুই দ্বিপক্ষীয় বন্ধুত্বের অংশ, নাকি এর সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানেরও সম্পর্ক রয়েছে?
বৈঠকটি কী, কারা অংশ নিয়েছেন?
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং ৩ নভেম্বর তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসেন। তাঁর সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল ৪ নভেম্বর ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ‘Where History Illuminates the Future: China-Bangladesh Political Parties Plus Roundtable’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা।
চীনা দূতাবাসের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের উপস্থিতি আলোচনাটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞ এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ-চীন পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজ সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়। রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা বিনিময়, গবেষণা এবং দুই দেশের রাজনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (BSS), ৪ নভেম্বর ২০২৬; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ৪ নভেম্বর ২০২৬।
বিএনপি সরকারের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক: রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব
চীনা প্রতিনিধির সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক। ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, চীনা বিনিয়োগ এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ ও পরিবেশের ওপর প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানের চাপ তুলে ধরে সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা চান। লিউ হাইশিং বাংলাদেশের উদ্বেগ চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। দুই পক্ষ বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর এবং রাজনৈতিক দল পর্যায়ে বিএনপি ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সম্পর্ক সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা করে।
চীনা প্রতিনিধি বিএনপির একটি প্রতিনিধিদলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
সূত্র: bdnews24.com, ৪ নভেম্বর ২০২৬; বিএনপির সংবাদ বিবরণী, ৪ নভেম্বর ২০২৬।
এই বৈঠক থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—চীন বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক গভীর করার পাশাপাশি রাজনৈতিক দল পর্যায়েও দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী।
চীন কেন বাংলাদেশের সব প্রধান রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে চায়?
চীনের পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক রক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও যোগাযোগ বজায় রাখা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলেও চীন তার অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিতে চায়।
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগর, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ভারত-চীন আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চীনের জন্য বাংলাদেশের গুরুত্ব কয়েকটি ক্ষেত্রে বিশেষভাবে বিবেচ্য:
প্রথমত, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থ। বাংলাদেশের অবকাঠামো, শিল্প, জ্বালানি, যোগাযোগ এবং প্রযুক্তি খাতে চীনা বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ একটি বৃহৎ বাজার এবং উৎপাদন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনাময় অংশীদার।
দ্বিতীয়ত, বঙ্গোপসাগরীয় ভূরাজনীতি। বঙ্গোপসাগর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সামুদ্রিক যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এই অঞ্চলে বাংলাদেশের অবস্থান চীনের জন্য কৌশলগতভাবে মূল্যবান।
তৃতীয়ত, রাজনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও চীন চায় বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে তার যোগাযোগ অক্ষুণ্ণ থাকুক। এটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সম্পর্ক বজায় রাখার একটি কূটনৈতিক কৌশল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে এসব কারণকে চীনের ঘোষিত নীতির সঙ্গে বিশ্লেষণমূলক ব্যাখ্যার পার্থক্য রেখে দেখতে হবে। সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগের অর্থ কোনো দলকে ক্ষমতায় আনার পরিকল্পনা—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর প্রমাণ নেই।
জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে যোগাযোগের তাৎপর্য

বিএনপির সঙ্গে চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির প্রতিনিধিদের একই আলোচনায় অংশগ্রহণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি নতুন মাত্রা তুলে ধরে।
জামায়াত বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি। এনসিপি জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা নতুন রাজনৈতিক সংগঠন। এই দুই দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে চীনের রাজনৈতিক যোগাযোগের অর্থ হলো, বেইজিং বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরকে শুধু একটি দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে দেখছে না।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠতে পারে—চীন কি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নিজের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে?
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা এবং দলীয় প্রতিনিধিদলের সফর সাধারণত রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্পর্ক বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে। কিন্তু প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা এবং সরাসরি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ এক বিষয় নয়। প্রকাশিত বৈঠকের তথ্য থেকে কোনো দলকে চীনের রাজনৈতিক নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে কিংবা কোনো গোপন রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি পাওয়া যায় না।
চীন-ভারত-যুক্তরাষ্ট্র: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির পরীক্ষা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চীনের এই যোগাযোগকে বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে দেখাও জরুরি।
ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, নিরাপত্তা, নদীর পানি, সীমান্ত, যোগাযোগ এবং মানুষের চলাচলের সম্পর্ক গভীর। অন্যদিকে চীন বাংলাদেশের অবকাঠামো ও উন্নয়ন সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বাণিজ্য, শ্রম অধিকার, নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই তিন শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জাতীয় স্বার্থভিত্তিক স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি।
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে। কিন্তু সেই সম্পর্ক যেন অন্য কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় বিরোধ সৃষ্টি না করে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে ভারত বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার নামে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা সীমিত করাও বাংলাদেশের স্বার্থের অনুকূল নয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত—কোনো শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ না হয়ে সকলের সঙ্গে সহযোগিতা, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজের স্বাধীনতা বজায় রাখা।
রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য কী শিক্ষা?
চীনের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ বাংলাদেশের দলগুলোর জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলো আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রাষ্ট্র পরিচালনা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেতে পারে।
তবে এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখা জরুরি।
প্রথমত, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক যোগাযোগ যেন বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলো যেন বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে।
তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন।
চতুর্থত, বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধান, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলাদেশের জন্য সুযোগ, না নতুন কৌশলগত চ্যালেঞ্জ?
চীনের এই সফর বাংলাদেশের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা সংকট এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে।
তবে একই সঙ্গে বাংলাদেশের সামনে একটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা যত বাড়বে, বাংলাদেশের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখা তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে মনে রাখতে হবে, বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের মূল্যায়ন হওয়া উচিত বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং সার্বভৌমত্বের স্বার্থে।
শেষ কথা: কূটনৈতিক যোগাযোগ, কিন্তু জাতীয় স্বার্থই প্রধান
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সফর এবং বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে গোলটেবিল আলোচনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
এই ঘটনা দেখায়, চীন বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
কিন্তু এই যোগাযোগের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে ভবিষ্যতে। চীন বাংলাদেশের অর্থনীতি, রোহিঙ্গা সংকট, বিনিয়োগ এবং উন্নয়নে কতটা বাস্তব সহযোগিতা করে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক কতটা স্বচ্ছ ও কার্যকর হয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি কতটা সুরক্ষিত থাকে—এসব প্রশ্নের উত্তরই এই সফরের দীর্ঘমেয়াদি তাৎপর্য নির্ধারণ করবে।
বাংলাদেশের জন্য চীন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, ভারত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী এবং যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক শক্তি। এই সম্পর্কগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থকে প্রতিষ্ঠিত করাই হবে প্রকৃত কূটনৈতিক সাফল্য।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনো বিদেশি শক্তির রাজনৈতিক পছন্দের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে না। তার ভিত্তি হতে হবে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন।
— আলাপচারিতা | সময়ের কথন
তথ্যসূত্র
-
BSS — চীনের রাজনৈতিক সহযোগিতা ও ঢাকা গোলটেবিল আলোচনা
-
The Business Standard — চীনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা
-
bdnews24 — তারেক রহমান ও লিউ হাইশিংয়ের বৈঠক
-
BNP — রোহিঙ্গা সংকট ও চীনের সঙ্গে বৈঠকের বিবরণ
-
Daily Sun — চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা ও রাজনৈতিক সম্পর্ক

